My Journey With An Adventurer

Abir Azim Badhon
Abir Azim Badhon

(প্রথম খন্ড)

যারা ভাগ্যকে বিশ্বাস করে এবং যারা করে না এই দুই দলের জন্যই আমার এই লেখাটা। তাহলে শুরু থেকেই শুরু করি। তখন ২০১৬ সাল। আমি তখনো জানতাম না, আমার জন্য কতবড় একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে। ইন্টারের রেজাল্ট খারাপ থাকায় আর পরাশুনায় ফাঁকি দেওয়ার কারনে, কোনো পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পেলাম না। শেষে ঠাই হল তিতুমির কলেজের zoology তে। তাও অনেক জল্পনা কল্পনার পর। আর ওই সময়ে যেটা ঘটে সেটাই ঘটল, অন্য সব বন্ধুরা - যাদের সাথে স্কুল কলেজে পড়েছি তারা সবাই ভাল ভাল ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ায়, নিজেকে ছোট মনে করা শুরু করলাম। এক দূর আত্মীয়ের সহায়তায় একটা টিউশনি পেলাম। কিন্তু কিছুতে নিজেকে বুঝাতে পারলাম না "তুই happy আছিস"।

এভাবে বসে থাকলে তো চলবে না, কোনো একটা উদ্যোগ তো নিতে হবে। ঢাকা ছেড়ে বেড়াতে গেলাম এবার নিজ গ্রামে। বাবা মা দুইজনেই সরকারী চাকরিজীবী। মোটামুটি ইনকাম খারাপ না ফ্যামিলির। আমার একটা ক্লোজ ইস্কুল ফ্রেন্ডকে পাঠিয়ে দিলাম আমার মায়ের সাথে কথা বলার জন্য উদ্দেশ্য প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ার। আমি সরাসরি বলতে পারি না কারন আমি বিগত ২ বছরে ভরসার মত কোন কাজই করি নি। আমার ওই ক্লোজ ফ্রেন্ডটা তখন একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেছে। ও আমার মাকে মোটামুটি বুঝাতে সক্ষম হল যে, ওখানে না পড়লে আমি অনেক বড় একটা অপরচুনিটি থেকে বঞ্চিত হব। কথাটা আমার বাবার কানে গেল। তো বাবা আমকে জিজ্ঞেস করল আমি পড়তে চাই কিনা। যেহেতু প্লানটাই আমার, না আর কেমনে করি। রাজি হলাম। ঢাকা এসে একটা প্রাইভেট ভারসিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হলাম।

এবার শুরু হল নতুন একটা জার্নি। এই জার্নিতে আমি একেবারেই কাঁচা। কারন এই বিষয়ে প্রথমত আমার কোন ইন্টারেস্ট ছিল না। তবে একটা বিষয়ে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম, এখানে আমাকে ভাল রেজাল্ট করতে হবে। নিজের স্বভাবসুল্ভ আচরণের কারণে সবার সাথেই একরকম ভাল সম্পর্ক তইরি হল। এর মদ্ধ্যে একজন ছিল লোবো (ছদ্ম নাম)। ও তখন আমার সব থেকে ক্লোজ ফ্রেন্ড। কারন ওর বাসা আর আমার বাসা প্রায় একই যায়গায়। রাস্তায় আসা যাওয়ায় ওর সাথেই কথা হত। প্রথম সেমিস্টারে কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল নামে একটা সাবজেক্ট ছিল। ক্লাসের প্রথমদিন থেকেই উস্ক খুস্ক কোঁকড়া ছুলের অধিকারি গুন্ডা টাইপের একটা ছেলেকে দিয়ে কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস এর টপিকগুলো বুঝানো হত। বুঝতে সময় লাগলো না যে ছেলেটা ট্যালেন্টেড। আর ততদিনে লোবোর সাথে ওই ছেলেটার একটা ভাল সম্পর্ক তৈরি হল। তো একদিন লোবো আমাকে নিয়ে গেল ধানমন্ডির লেকে। বলল "চল নাইমের কাছে"। ওকে চিনতাম বাট ওর নাম ততদিনে জানতাম না। গিয়ে দেখলাম নাইম শ্রাবন্তিকে(ছদ্ম নাম) কি জেন একটা টাস্ক দিছে। ওটা নিয়ে সে ব্যস্ত। শ্রাবন্তি আমাদের সাথেই পড়ত। দেখলাম স্টার প্যাটার্ন এর কোনো প্রবলেম। সমকোণী ত্রিভুজ বানাতে হবে সুডো কোড দিয়ে। যাই হোক প্রবলেমটা দেখেই ঘাবড়ে গেলাম। যাই হোক আমিও শ্রাবন্তির সাথে প্রবলেমটা সল্ভ করা শুরু করলাম। অনেক্ষন আমরা খাতায় আঁকা উঁকি করলাম কিন্তু কোনো সলিউশনে আসতে পারলাম না। তারপরে অনেক্ষন পরে নাইম তার মুখ খুলল। প্রবলেমটা বুঝাল প্রথমে, তারপরে এর সলিউশনটা নিয়ে ডিসকাস করল, তারপরে জিজ্ঞেস করল বুঝছিস? দুইজনেই মাথা নাড়লাম অবশ্যই বুঝছি, এটা তো খুবই সহজ। তারপরে আমাদেরকে সিমিলার টাইপের আরেকটা প্রবলেম দিল। আগেরটা তো বুঝলাম বাট এটা খুবই কঠিন মনে হল। নিজে একটা সিগেরেট খেতে খেতে আমাকে দিল নাইম, লোবোও পাশেই ছিল, সেও তার সাধ্যমত চেস্টা করতে থাকল। যাই হোক তিন জনে মিলেও সে প্রবলেমটা সল্ভ করতে পারলাম না! তারপরে আবার নাইম বলল "আগে প্রবলেমটা বোঝার চেস্টা কর, মাথার সাথে খাতার একটা যোগসূত্র কর, সলিউশন অটো চলে আসবে।" তারপরে যখন বুঝল আমরা আসলে অতটা ক্যাপাবল না। আসলে ট্যালেন্টেড মানুষগুলোর অনেক সমস্যা থাকে। প্রথম সমস্যা আপনার কনফিডেন্সকে ডাউন করবে ইচ্ছে করে। তো যাই হোক শেষমেশ আমারা যখন হার মানলাম- তখন নিজেই সব বুঝিয়ে দিল, সলিউশনটাও দেখাল। বাহ কত্ত সহজ মনে হল এবার! সবশেষে সে জিজ্ঞেস করল, "কে জেন তুই"? আমি বললাম, "আমি Bk"। তারপরে বিকেল পর্যন্ত আমাদের আড্ডা চলল। তবে সে আড্ডা ছিল প্রগ্রামিং এবং বিভিন্ন টেকনোলজিকে কেন্দ্র করে। আমার মাথায় তখনও ওই স্টার প্যাটার্ন এর ব্যাপারটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। এবং শুধু ওইদিন না আরো বেশ কয়েকদিন ধরে ওইসব নিয়েই চিন্তা করতে লাগলাম।

তার মদ্ধ্যে লোবোর সাথে আমার সম্পর্কটা আরেকটু ভাল হল। একদিন লোবো ফোন দিল। জিজ্ঞেস করল, "আমি শেখেরটেক যাচ্ছি তুই যাবি?" আমি রাজি। দেখা হওয়ার পরে বলল শেখেরটেক নাইমের সাথে দেখা করতে যাবে। ওয়াও! ওর কথা শোনার পর আবারো ওই স্টার প্যাটার্ন এর কথা মনে পরে গেল। তখন ভাবতেছিলাম স্টার প্যাটার্ন নিয়ে আমাকে যদি কিছু জিজ্ঞেস করে! আল্লাহ সব ভুলে গেলাম নাকি? তারপরে ভাবলাম এসব নিয়ে ভাবার মত টাইম নিশ্চই ওর হবে না। এসব ভাবতে ভাবতে আর লোবোর সাথে কথা বলতে বলতে পৌঁছে গেলাম। শেখেরটেক টকিয়ো স্কয়ারের সামনে বসে সিগারেট খাচ্ছে সে আর একটা ছেলের সাথে কথা বলতেছে, আমরা গিয়ে হ্যান্ডশেক করে বসলাম। কি জেন বিষয় নিয়ে খালিদের সাথে কথা বলতেছে। আর আমি পাশে বসে শুনছিলাম কথাগুলো। আর ভাবতেছিলাম "এত কনফিডেন্স মানুষ কেমনে হয়? ও কি সত্যিই ভিতর থেকে কনফিডেন্ট নাকি শুধুমাত্র শো করতেছে হুদাই!" হটাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করল, তোকে চেনা চেনা লাগছে, তুই জানি কে? আমি বললাম, "আমি bk"। তারপরে অনেক আড্ডা হল। ঠিক সন্ধার পরে চা বিড়ি খেয়ে বাড়ির দিকে ফিরলাম। আসার পথে ভাবছিলাম "যাক বাঁচছি স্টার প্যাটার্ন নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে নি!"।